মাগুরা প্রতিদিন : নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে হিসাব–নিকাশ ও সম্ভাব্য ফল নিয়ে আলোচনা। সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, বিভিন্ন জরিপ ও পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে এবারের নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য চিত্র সামনে এসেছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া বিশ্লেষণে তিনি জানান, সরকারি কয়েকটি সংস্থার প্রাথমিক তথ্য এবং একটি জাতীয় দৈনিকের জেলা প্রতিনিধি–ভিত্তিক জরিপ মিলিয়ে এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। সরকারি সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনে ভোট হচ্ছে। সম্ভাব্য হিসাবে বিএনপি (জোট ছাড়া) পেতে পারে প্রায় ১৫০টি আসন, জামায়াত–জোট প্রায় ৭০টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রায় ৫৫টি আসন, জাতীয় পার্টি ১০–১২টি আসন, ইসলামী আন্দোলন ৭–৮টি আসন এবং অন্যান্য ছোট দল মিলিয়ে প্রায় ৫টি আসন।
এই হিসাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাফল্য একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের শক্ত অবস্থানের কারণে স্বতন্ত্রদের আসন সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি জাতীয় দৈনিকের জরিপে আসনগুলোকে নিশ্চিত আসন ও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসনে ভাগ করা হয়েছে। কম প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসনে বিএনপি ৮৮টি, জামায়াত ৫১টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ১০০টি, এনসিপি ২টি, জাতীয় পার্টি ৪টি এবং অন্যান্য দল ৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বাকি ১৩২টি আসনকে কঠিন লড়াইয়ের আসন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোর ফলই সরকার গঠনের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণ করবে।
এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী সরকার গঠনের পথে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ১৩২টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬২টি আসন পেলে বিএনপির মোট আসন সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৫০-এ। বিপরীতে জামায়াতকে সরকার গঠন করতে হলে এই ১৩২টি আসনের মধ্যে প্রায় ৯৯টি আসন জিততে হবে, যা বাস্তবতায় কঠিন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কুশাসন ও জনদুর্ভোগের অভিজ্ঞতা মানুষের মধ্যে তুলনার প্রবণতা তৈরি করেছে।
পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কিছু নেতাকর্মীর নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বড় দলগুলোর জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতিও ভোটের অঙ্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
মাসুদ কামাল বলেন, ভোটের অঙ্ক সব সময় কাগজ–কলমের হিসাব মেনে চলে না। শেষ মুহূর্তে জনমত বদলাতেও সময় লাগে না। তাই এই পূর্বাভাসকে সম্ভাব্য একটি চিত্র হিসেবেই দেখতে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে কী জোটে, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে ভোটের ফল ঘোষণার দিনই।